
রেজাউল করিম কাপ্তান
বৈশাখের পহেলা তারিখ হল বাংলা নববর্ষ। প্রথম দিন থেকে শুরু হয় নতুন বছরের গণনা।এই নতুন বর্ষের দিনটি আমাদের উচিত ফরজ নামাজের পাশাপাশি,নফল নামাজ, ভিন্ন ধর্মালম্বীদের তাদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রার্থনা এবং দান সদকা, পরস্পরের সাথে আন্তরিকতা ও সহানুভূতির মধ্য দিয়ে শুরু করা । অর্থাৎ বছরের প্রথম দিনটি হোক অন্যান্য দিনের তুলনায় ইবাদত বন্দেগী সহমর্মিতা আন্তরিকতাও মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারের উত্তম নমুনা। এবং এটাই প্রত্যয় হোক পুরো বছরটা যেন হয় সুন্দর ও মসৃণ। কিন্তু হচ্ছে কি? পহেলা বৈশাখে কিছু ভদ্রবেশী বিত্তশালীরা ইলিশ পান্তা খেয়ে উদর পূর্তি করে শান্তির ঢেকুর তুলতে শুরু করেন নতুন বছরের নতুন দিন। অথচ ভদ্রলোক নামধারী ব্যক্তি একটুও ভাবেন না আমি যে ইলিশ পান্তা খেয়ে মজা নিলাম শান্তির ঢেকুর তুললাম অথচ আমার প্রতিবেশী হতদরিদ্র মানুষটি তার সন্তান-সন্ততি নিয়ে ডাল ভাত খেতে না পেরে আকাশ বাতাস মুখরিত করে কাঁদছে অথবা বোবা কান্না হৃদয়টি এলোমেলো করে দিচ্ছে। এমনিভাবে উচ্চবিত্তের সহানুভূতিহীন নিম্নবিত্ত মানুষ গুলো দিন দিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন যা খুবই দুঃখজনক। সমাজের উচ্চবিত্ত ব্যক্তিগুলো যদি নিম্নবিত্ত অসহায় দিনমজুর লোকদের প্রতি সহমর্মিত আন্তরিকতার হাত না বাড়ান তাহলে এ সমাজ থেকে কখনোই দারিদ্রতা বিলোপ সাধন সম্ভব নয়। দেশটাকে সিঙ্গাপুরের মত বানিয়ে দেওয়া হবে এসব শুধু বক্তব্যে এবং মঞ্চে মানায় কিন্তু বাস্তবে নয়। এ সমাজ থেকে দারিদ্রতা বিলুপ্ত করতে গেলে দেশের সরকার প্রধানকে এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে যুবসমাজকে দক্ষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসংস্থান তৈরি করে বেকারত্ব দূর করা। এবং দেশের শিক্ষিত ও উচ্চশিক্ষিতগণকে যথা উপযুক্ত স্থানে আসীন করে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া। তবেই আমাদের সোনার বাংলা বিশ্বের মানচিত্রে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে আখ্যায়িত হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সমাজ থেকে দারিদ্র্য লোকদের সংখ্যা কমাতে হলে বিত্তশালীদের কে হাদিয়া সদকা, যাকাতের বিধান ও সম্পদশালীদের মাথা থেকে টাকার পাহাড় গড়ার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে নিম্নবিত্তদের প্রতি সহানুভূতি তথা আন্তরিকতার হাত বাড়াতে হবে। তবেই বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে একটি মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচিত হবে।পহেলা বৈশাখের নামে ইলিশ পান্তাতে উদরপূর্তি ভোজন, বেহায়াপনা কোন ক্রমেই কাম্য নয়।দেখা যাচ্ছে পহেলা বৈশাখে কিছু রং নিয়ে ঢং করে, যা খুবই বিশ্রী। এই রং ঢং যে কাউকে বিব্রতকর পরিস্থিতি ফেলে দেওয়া কারণ হতে পারে। জনৈক ভদ্রলোক বের হয়েছেন ওনার আত্মীয় মারা গেছে তথা অসুখ-বিসুখ অথবা বিশেষ কোনো কাজে বের হলেন।কিন্তু হঠাৎ করে কিছু উশৃংখল ছেলেমেয়ে রং ছুড়ে দিয়ে ভদ্রলোকের জামাকাপড় একেবারেই বিশ্রী করে দিল। এমতাবস্থায় স্বজনদের কাছে পৌঁছাতে হয় যা খুবই দুঃখজনক। এহেন অবস্থার পরিবর্তন দরকার। সংস্কৃতির নামে কোমল মনে কুঠার আঘাত করা মোটেও উচিত নয় । পহেলা বৈশাখ তথা নতুন বছর হোক নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের
শুদ্ধতম অঙ্গীকার। আত্মসংশোধনের পথে হাঁটুক নিজ নিজ অনুভূতি। সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।✪লেখক,সভাপতি সমাজ সুরক্ষা ফাউন্ডেশন, নোয়াগাঁও